Monday, 6 June 2016

ভারতের MARCOS বাহিনী সম্পর্কে ১৫টি অজানা তথ্য

এদেশের বিভিন্ন ফোর্সের জওয়ানেরা টেক্কা দিতে পারেন তাবড় সব দেশের সৈন্যদের সঙ্গে। সে হিমালয়েই হোক বা সমুদ্রে ভারতীয় সেনা এগিয়ে রয়েছে সব জায়গাতেই। ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘মার্কোস’ বাহিনী তেমনই বিশ্বের অন্যতম সেরা বাহিনী হিসেবে চিহ্নিত। এদের কাছে থাকে বিশ্বের আধুনিকতম সব অস্ত্র। তবে মার্কোসের সদস্য হওয়া মোটেই সহজ কাজ নয়। তীব্র মানসিক ও শারীরিক প্রতিকূলতার মধ্যে নিজেদের ক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে তবেই এই বাহিনীর সদস্য হওয়া যায়। যা সাধারণের পক্ষে অসম্ভব। ট্রেনিং শেষে মাত্র ৫ শতাংশ যুবককে এই বাহিনীতে যুক্ত হওয়ার জন্য বাছাই করা হয়। এই বাহিনীর জওয়ানেরা সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পারদর্শী হন। সন্ত্রাস দমন, জলের তলায় যুদ্ধ, পণবন্দীদের উদ্ধার ইত্যাদি সব কাজেই তারা দক্ষ। এই MARCOS সম্পর্কে কয়েকটি অজানা তথ্য জেনে নিন: ১. ১৯৮৫ তে তৈরি হয় এই বাহিনী। তখন নাম ছিল Indian Marine Special Forces (IMSF). দু’বছর পর নাম দেওয়া হয় Marine Commando Force (MCF).
এদের মোট হল The Few The Fearless. ২. এই বাহিনীতে যোগ দিতে গেলেদু থেকে তিন বছরেরট্রেনিং করতে হয়। ৩. ট্রেনিং নেওয়ার যোগ্য কিনা তা দেখার জন্য হয় প্রি-ট্রেনিং। তিনদিন ধরে চলে শারীরিক পরীক্ষা। সেখান থেকেই ৮০ শতাংশ আবেদনকারী বেরিয়ে যায়। এরপর পাঁচ সপ্তাহের বিশেষ ট্রেনিং হয়। যাকে বলা হয়‘হেল-উইক’। সেখানে ঘুমোতে পর্যন্ত দেওয়া হয় না। চূড়ান্ত শারীরিক ও মানসিক চাপে রাখা হয়। এরপরও যারা হাল ছাড়ে না, তারাই চূড়ান্ত পর্যায়ে যেতে পারে। ৪. প্রথমে মুম্বইতে আইএনএস অভিমন্যুতে তাদের ট্রেনিং হয়। এরপর আগ্রায় প্যারাট্রুপারের ট্রেনিং দেওয়া হয় তাদের। সব শেষে কোচির ডাইভিং স্কুলে ট্রেনিং দেওয়া হয়। ৫. প্রাথমিক ট্রেনিং-এর পর শুরু হয় অ্যাডভান্স ট্রেনিং।হাইজ্যাকিং, জঙ্গি হানা, যুদ্ধের মত পরিস্থিতিমোকাবিলার ট্রেনিং দেওয়া হয় এইসময়। ৬. প্যারা জাম্পিং-এর পাশাপাশি অনেকেই ‘ফ্রিং ফল’-এর জন্য নির্বাচিত হন। অনেক বেশি উচ্চতা থেকে চওড়া ও সরু জায়গায় ঝাঁপ দেওয়ার ট্রেনিং দেওয়া হয় এইসময়। বিশ্বের কয়েকটি বাহিনীর মধ্যে MARCOS একটি যারাসব অস্ত্রের ভার পিঠে নিয়ে প্যারা ড্রপিং-এর মাধ্যমে সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে সক্ষম।
৭. MARCOS -দেরহাই অলটিটিউড কমান্ডো কোর্সের ট্রেনিংদেওয়া হয় অরুণাচলের প্রভাত ঘটক স্কুলে, মরুযুদ্ধ শেখানো হয় রাজস্থানের ডেজার্ট ওয়ারফেয়ার স্কুলে, জঙ্গি দমন শেখানো হয় মিজোরামের জাংগল ওয়ারফেয়ার স্কুলে। ৮. মার্কিন নৌবাহিনীরSEAL কোর্সে সবার উপরেজায়গা করে নেয় এই MARCOS বাহিনী। ৯. একজন জওয়ান৩ থেকে ৫ বছরপর্যন্ত এই বাহিনীতে থাকতে পারে।
১০. এদের কাছে থাকে বিশ্বের আধুনিকতম সব অস্ত্র। থাকেইজ্রায়েলের Tavor TAR-21যার সঙ্গে যুক্ত থাকে গ্রেনেড লঞ্চার। যা দিয়ে জলের তলা থেকে আচমকা উঠে শত্রুর উপর আঘাত হানতে পারে সহজেই, যা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। ১১. Tavor TAR-21 ছাড়াও রয়েছেHeckler & Koch MP5মেশিন গান,SIG Sauer P226 ও Glock 17পিস্তল,Druganov ও Galilস্নাইপার রাইফেল।
১২. MARCOS-এর অপারেশন উল্লেখযোগ্য।জাফনা জেটি দখলের লক্ষ্যে তারা ১২ কিলোমিটার সাঁতরে যায়। বন্দরে বিস্ফোরক নিয়ে ওঠে। আবার সহজেই সাঁতরে ফিরে আসে। কেউ ধরা পড়েনি বা আহতও হয়নি। ১৩.১৯৮৮ তে অপ ক্যাকটাসনামের একটি অপারেশনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল এই বাহিনীর। ১৪.কার্গিল যুদ্ধেMARCOS শত্রু দমনে বড়সড় ভূমিকা নেয়।২০০৮-এর মুম্বই হামলাতেওতাজ ও ওবেরয়ে ঢুকে জঙ্গি নিধন চালায় MARCOS. ১৫. দাড়ি লাগিয়ে নিজেদের মুখ ঢেকে রাখে MARCOS-এর জওয়ানেরা। তাই এদের‘দাড়িওয়ালা ফৌজ’বলে ডাকে জঙ্গিরা।
kolkata24x7

No comments: